সীমিত মুসল্লিতে জুমা, মোনাজাতে ‘আমিন-আমিন’
ইপেপার / প্রিন্ট

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে রেকর্ডসংখ্যক কম মুসল্লি নিয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম প্র্রথম বারের মতো এত কমসংখ্যক মুসল্লি নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মহামারি থেকে মুক্তি কামনায় আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মোনাজাত করেন ইমাম। এসময় মুসল্লিরা ‘আমিন’, ‘আমিন’ধ্বনিতে ডুকরে কেঁদে ওঠেন।
এদিন দেখা গেছে, মসজিদের ভেতরে ইমামের পেছনে মুসল্লিদের দুটি সারি খালি ছিল। ইমাম যে রুমে নামাজ পড়ান, সেখানেই কেবল মুসল্লিরা ছিলেন। এর বাইরে মসজিদের ওপরে, চত্বরে, সিঁড়িতে কোথাও মুসল্লি ছিলেন না। মসজিদের বাইরে কিছু পুলিশ সদস্য ছাড়া রাস্তাঘাট ছিল একেবারেই ফাঁকা।
জুমার নামাজ আদায় করতে তরুণ ও যুবকরাই বেশি এসেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে অসুস্থরা মসজিদে আসেননি। মুসল্লিদের অনেকেই বাসায় সুন্নত আদায় করেই মসজিদের এসেছেন। এ সময় মুসল্লিরা মাস্ক পরা ছিলেন। নামাজ শেষ তারা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করেছেন।
বায়তুল মোকাররমে জুমা আদায় শেষে মুসল্লি বেলাল উদ্দিন হাবিব বলেন, ‘মুসল্লিদের বাসায় ওজু করে সুন্নত, নফল আদায় করে মসজিদে আসতে বলা হয়েছিল। জ্বর-সর্দি-কাশি আক্রান্ত ও বৃদ্ধদের মসজিদে না আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এই কারণে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কম।’ তিনি বলেন, ‘মসজিদের ওজুখানা বন্ধ ছিল। তবে, প্রতিটি গেটে বালতি ও বদনায় পানির ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে মুসল্লিদের হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হ্যান্ড টাওয়ালও সরবরাহ করা হয়েছে।’
শুধু বায়তুল মোকাররমে নয়, ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদে সীমিত মুসল্লিতে জুমার নামাজ আদায় হয়েছে। জুমা শেষে মুসল্লিরা করোনা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে দোয়া মোনাজাত করেছেন।
বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাত ধরেন পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কাসেম। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোনাজাতে তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ আমরা গুনাহগার। তুমি আমাদের গুনাহ মাফ করো। আমরা তওবা করছি, আর কোনো দিন গুনাহে লিপ্ত থাকবো না। হে আল্লাহ আমরা তোমার কাছে আশ্রয় চাই, আমাদের তুমি মহামারি দিয়ে ধ্বংস করে দিও না। তুমি রাহমানুর রহিম। তুমি খালেক তুমি মালেক। আমরা দুর্বল, তুমি যদি আমাদের দয়া না করো, তাহলে আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে যাবো? তুমি আমাদের দয়া করো। তুমি গফুরুর রাহিম।’ এসময় মসুল্লিরা ‘আমিন-আমিন’শব্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে, খুতবা-পূর্ব বয়ানে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান পেশ ইমাম।
এ সময় ইমাম বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় মসজিদে না এসে বাসাবাড়িতে নামাজ পড়া ইসলামসম্মত। মসজিদে যেমন সওয়াব হবে, তেমনি এই পরিস্থিতিতে বাসাবাড়িতে ইবাদত-বন্দেগিতেও সওয়াব হবে। এই পরিস্থিতিতে নামাজ-দোয়ায় সচেতন হতে হবে। যেন কোনোভাবেই আমার কারণে অন্যরা আক্রান্ত না হন। সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। তাই আসুন যতটা সম্ভব আলাদা থাকি। অন্যদের নিরাপদে রাখি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকি।’ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ইসলামে বলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Related News
চাঁদ দেখা যেতে পারে শুক্রবার:ঈদ হতে পারে শনিবার
জনতার নিঃশ্বাস:: এবার রমজান মাস ২৯ দিনে শেষ হওয়া এবং শুক্রবার (২১ এপ্রিল) শাওয়াল মাসেরRead More
রোজা শুরু আগামীকাল
জনতার নিঃশ্বাস:বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকেRead More

