শিরোনাম
পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবমুখর গফরগাঁওপাগলা থানা যেই নামে উপজেলা’হবে সেই নামে ঘোষণা- অন্য নামে নয়-এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশদেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা আজমাইনগফরগাঁও সহ দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ফখরুল হাসানগাজীপুরে ৯০ স্টল নিয়ে ৭দিনের বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলার উদ্বোধনত্রিশালে মাদকবিরোধী অভিযান, ইয়াবা-গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতারত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহমেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতফ্যামিলি ডে ও অক্সফোর্ড স্কলার্স ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষার ক্রেস্ট, সম্মানী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত অটোপাশের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের ওপর ফের হামলাগাজীপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরুত্রিশালে জাতীয়ভাবে উদযাপিত হতে যাচ্ছে নজরুল জয়ন্তী,সাংস্কৃতিক বিকাশে ব্যাপক প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভানজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত​ত্রিশাল থানায় ৩ বছরের শিশু লাবিব হত্যা: ঘাতক পিতা ও সৎ মা গ্রেপ্তারতেল ষড়যন্ত্র কাঠোরভাবে দমন করা হবে- জিএমপি কমিশনারভুল চিকিৎসা প্রতারণা ত্রিশালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালাবিদেশি বিনিয়োগকারীকে হয়রানির অভিযোগ প্যাসিফিক ফুটওয়্যারের এমডির বিরুদ্ধেগাজীপুরে সাংবাদিক আসাদের ওপর হামলা ও ভাড়াটে কর্মকান্ডের অভিযোগে নারী গ্রেফতারভৈরবে পেট্রোল পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি মিলছে না,ভোগান্তিতে চালকরাউপজেলা প্রেসক্লাব ত্রিশাল স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনগাজীপুরের সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়
.
Main Menu

পাঠ্য বইয়ে ভুল নাকি পরিকল্পিত: দায় কার?

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট

হাফিজুর রহমান:

সম্প্রতি সারাদেশে ব্যাপক আলোচিত ও ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাঠ্য বইয়ের ভুলের বিষয়টি। যদিও বিষয়টি ভুল নাকি পরিকল্পিত তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। বিনা মূল্যের পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকে বিতর্ক-সমালোচনা চলছেই। এসব বইয়ের ‘ভুল তথ্য’ ও ‘অসংগতি’ অতীতের যে কোনো সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। বিতর্কের শীর্ষে রয়েছে ডারউইনের তত্ত্বের বিষয়টি, যেটি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে আদিম মানুষকে একবারও বানর নয়, বরং বারবার প্রাচীন মানুষ এবং সামাজিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে বিতর্কের ঝড়। সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলছে। বিভিন্ন ইসলামি বক্তারা ওয়াজ মাহফিল, এমনকি জুমার খুতবায়ও বিয়ষটির প্রসঙ্গ তুলে পাঠ্যবই থেকে বিষয়টি বাদ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে

নতুন পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে প্রথম আলোচনায় আসে সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বই।

সেটির প্রথম অধ্যায় হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দেখা যাচ্ছে, এর বেশ কিছু অংশ পুরোপুরি ন্যাশন্যাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট থেকে হুবহু অনুবাদ করা হয়েছে।

বিজ্ঞান বইয়ে যেটা করা হয়েছে সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।সৃজনশীল বইয়ের নামে কিভাবে হবহু অনুবাদ ছেপে দেয়া হলো

এখানেই শেষ নয় প্রথম শ্রেণির ‘আমার বাংলা বই’-এর বর্ণ শিখি অধ্যায়ে ‘ও’ বর্ণ শেখাতে গিয়ে একটি কন্যাশিশুর গায়ে ওড়না জড়িয়ে থাকার ছবি দেয়া হয়েছে। যার নীচে লেখা হয়েছে ‘ওড়না চাই’। একটি ক্লাস ওয়ানে পড়া শিশু ওড়না চাইছে, এটা কতটা যুক্তিসঙ্গত? ওড়না কন্যাশিশুর পোষাক নয়। শুধু কন্যাশিশুই বা বলি কেন, এটা এমন শব্দ যা ঠিক অক্ষরজ্ঞান শেখানোর তালিকায় থাকার মত নয়। তাছাড়া বইটি ছেলে শিশু, মেয়ে শিশু সবাই পড়ছে। সেক্ষেত্রে ওড়না ছেলেরা পরার জন্য চাইবে কেন? অবশ্য ইদানীং ছেলেরাও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ওড়না পরছে। তাই হয়তো পুস্তক রচয়িতারা ওড়নার উদাহরণ দিয়েছেন একবারে বাল্যশিক্ষাতে!

কিন্তু সত্যিকার অর্থেই কি ভুল নাকি অন্য কিছু। বর্তমান সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন কাজ নয়তো? বর্তমান সরকার সকল ধর্মকে মর্যাদা ও সম্মান দিয়ে থাকে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একেকটি বইয়ে লেখক-সম্পাদক হিসেবে ১০-১৫ জনের নাম পর্যন্ত দেখা যায়। বই প্রকাশের আগে কয়েকজন বিষয়-বিশেষজ্ঞের কাছেও পাণ্ডুলিপি পাঠানো হয় দেখার জন্য। এমনকি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন উচ্চতর কর্তাব্যক্তির কাছে বই পৌঁছে দেওয়া হয় মূল্যায়ন করতে।

এরপরও পাঠ্যবইয়ে কেমন করে ভুল থাকে, সেই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রতিবছর নতুন বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এসব ভুল নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে। যাদের জন্য এসব বই, তাদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া কম হয় না।

‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে পাঠ্যবাক্যে একাধিকবার ‘সময়কাল’ শব্দ উল্লেখ আছে। সময় ও কাল দুটি শব্দ, তবে একই অর্থ। তাই যে কোনো একটি ব্যবহার হবে। একই পৃষ্ঠায় এক জায়গায় আছে ‘নদ-নদীগুলো’। ‘নদনদী’ শব্দটিই বহুবচন। যতিচিহ্ন-কোলনের ব্যবহারও অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয়নি। কোনো কোনো বইয়ে ‘পরিপ্রেক্ষিত’ শব্দের বদলে ‘প্রেক্ষিত’ ছাপা হয়েছে।
এই বইয়েই সংবিধানের আলোচনায় বলা হয়েছে, ‘পঞ্চম ভাগে জাতীয় সংসদ’। সঠিক তথ্য ‘পঞ্চম ভাগে আইনসভা’।

২০২৩ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির মানবিক শাখার জন্য নির্বাচিত ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ের ১৮১ পৃষ্ঠায় ‘অবরুদ্ধ বাংলাদেশ ও গণহত্যা’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘২৬শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠে।’ বইতে ২৫ মার্চের কালরাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকা শহরে এক বর্বর গণহত্যা চালায়।

নতুন শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে এ রকম বেশ কিছু তথ্যগত ভুল করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বেশির ভাগ ভুল ইতিহাসকেন্দ্রিক। কিছু বানান ও যতিচিহ্ন সংক্রান্ত ভুলও আছে। তবে এনসিটিবি বলছে, এগুলো বিশেষজ্ঞরা লিখেছেন। তারাই পরিমার্জন করেছেন। এখানে এনসিটিবির দায় নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনসিটিবি তাদের দায় এড়াতে পারে না।

একই শ্রেণির মানবিক শাখার জন্য নির্বাচিত ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ের ২০০ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ‘১২ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের নিকট প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।’ এটিও সঠিক তথ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শপথ পড়িয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

 ‘বখতিয়ার খলজী অসংখ্য বিহার ও লাইব্রেরি ধ্বংস করেছেন’- এরকম অনেক অনৈতিহাসিক, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েই লেখা হয়েছে এবারের স্কুলের পাঠ্যবই।

কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সোর্সই এ ধরনের বক্তব্যের সত্যতা প্রতিপাদন করে না। মনে হয়েছে, ইতিহাস নয় বরং লেখকদের কারো কারো নিজস্ব বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়েছে বইয়ের পাতায় পাতায়। পাক-ভারত-বাংলাদেশ এক সময় ছিল বৌদ্ধ অধ্যুষিত। সেই বৌদ্ধরা কীভাবে এদেশ থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়ে গেল তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে, তবে তার কোনোটাতেই বখতিয়ার খলজীকে অনেকগুলো বিহার ও লাইব্রেরি ধ্বংসের জন্য দায়ী করা হয় নাই। এনসিটিবি কীসের উপর ভিত্তি করে লেখক আর কন্টেন্ট নির্ধারণ করে বুঝতে পারলাম না।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ডারউইনের তত্ত্ব শেখানো নিয়ে। ইসলামবিরোধী এই তত্ত্ব ষষ্ঠ শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলনী বইয়ের ১১৪ ও ১১৫ পৃষ্ঠায় ছবির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে মানুষ আগে বানর ছিল, আর সেখান থেকেই কালের বিবর্তনে ধাপে ধাপে মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে। বইয়ের ১১৪ নং পৃষ্ঠায় শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘খুঁজে দেখি মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস’ ঠিক তার পরের পৃষ্ঠায় অর্থাৎ ১১৫ পৃষ্ঠায় ‘বিভিন্ন সময়ের মানুষ’ শিরোনাম দিয়ে চারটি ছবির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে মানুষ আগে মূলত বানর ছিল। আর তার পরেই কয়েকটি ধাপে বানর থেকেই মানুষের আকৃতি রূপান্তরিত হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে ডারউইনের তত্ত্ব নিয়ে যে অধ্যায় লেখা হয়েছে সেখানে দেখানো হয়েছে বানর থেকেই মানুষের জন্ম। এই তত্ত্বের কোনো ইসলামিক ব্যাখ্যা বা সত্যতা নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। অনেকের দাবি ইসলাম প্রধান দেশে এমন একটি বিতর্কিত বিষয়ে পাঠ্যবইয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এটা মেনে নেয়ার মতো নয়। বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা দাবি করেন আগামী শিক্ষাবর্ষ নয় বরং চলতি বছরেই অবিলম্বে এই বিতর্কিত বিষয় পাঠ্য বই থেকে বাতিল করতে হবে।

 ‘বিচক্ষণতা এবং পেশাদারিত্বের অভাব’ থেকেই এসব ভুল হয়েছে পাঠ্যপুস্তকে।

বিনামূল্যে বই একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। পৃথিবীর আর কোথায়ও এমন আছে কি না আমার মনে হয় না। সরকারের পরিকল্পনা চমৎকার। কিন্তু পাঠ্যবইয়ে ভুল তথ্যের বিষয়টি দুঃখজনক। সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। পরবর্তীতে হয়তো সংশোধন হবে কিন্তু যে ভুল হয়ে গেছে সেটিরতো একটি প্রভাব রয়েছে। বিষয়টি ভুল নাকি পরিকল্পিত তাও বুঝা সম্ভব নয়। এমনও হতে পারে একটি চক্র সরকারের এমন মহৎ উদ্দ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন কাজ করেছেন। তবে যাই হোক আমরা চাই সঠিক শিক্ষা। কারণ একটি শ্রেণি বিজ্ঞাণ ও ধর্মকে প্রতিদ্বন্দ্বী বানাতে চায় কিন্তু ধর্মের মাঝেই লুকিয়ে আছে বিজ্ঞাণ সেটি বুঝার ক্ষমতা নেই তাদের।

লেখক:
হাফিজুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক
সাপ্তাহিক জনতার নিঃশ্বাস পত্রিকা।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *