গরীবের ডাক্তার রাজন রাজু: দৃষ্টিহীনদের চোখে আলো ফুটানোই তাঁর স্বপ্ন
ইপেপার / প্রিন্ট
ব্যুরো চীফ-ময়মনসিংহ:: স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টি আমরা প্রায় সকলেই নিজের চোখে দেখে তৃষ্ণা মিটিয়ে উপলব্ধি করতে পারলেও এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা কখনো দেখতে পায়নি এমন সুন্দর পৃথিবী। সেসকল মানুষকে চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ডা. শাহরিয়ার রাজন রাজু।
অসুখে বিসুখে অসুস্থতায় সৃষ্টিকর্তার পরেই মানুষ যাঁদের শরণাপন্ন হয় সেই মহান পেশার মানুষ হলো চিকিৎসক। সেবার ব্রত নিয়েই যাঁরা নিজেদের আত্ম নিয়োগ করেন চিকিৎসা সেবার মতো মহৎ পেশায়। প্রতিটা সেক্টরেই ভাল মন্দ দুই শ্রেণির মানুষ থাকে তেমনি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও আছে। রাগ অভিমানে এই পেশার মানুষকেই অনেক সময় কশাই বলতেও শোনা যায় আবার এই মানুষগুলোর দ্বারা উপকৃত হয়ে সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রাণভরে দোয়াও করেন অনেকে।
চিকিৎসাসেবা একটি অনন্য শিল্প বা সেবা। একে প্রায়োগিকভাবে রপ্ত করতে হয়। জানতে হয় বিস্তর। আত্মস্থ করতে হয় ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় দিয়ে। সব কাজের মধ্যে যেমন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় শ্রেণি আছে, তেমনি চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যেও তাই। সবকিছু ছাপিয়ে চিকিৎসকের উত্তম ব্যবহার, হাতের যশ, রোগ নির্ণয়, তার সঠিক চিকিৎসা প্রয়োগ, চিকিৎসার অনাবিল মুন্সিয়ানা হয়ে উঠে অনেকে । অনেক চিকিৎসক আছেন যাদের কোনো আবেগ ও হৃদয়ের ভাবাবেগ থাকে না। এ যেন রোবটিক ফাঁপা, নিষ্প্রাণ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা করা। এ রকম চিকিৎসকদের সাধারণ মানুষ মোটেই পছন্দ করেন না। চিকিৎসা করতে হয় রোগের ধরন বুঝে আর বাস্তবতা দিয়ে। তাহলেই রোগ দূরীভূত হবে। সেই রকম একজন ভাল মানের ও ভাল মনের একজন মানবিক চিকিৎসক। তার আচরণেই রোগীর ৫০% রোগ ভাল হয়ে যাবে। তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগী ও অভিভাবকের অভিমত। সেই মানবিক ডাক্তার টি হলেন ডা. শাহরিয়ার রাজন রাজু।
অর্থ বিত্তের দিকে না ছুটে তিনি ছুটেছেন মানবতার কল্যাণে। তাঁর স্বপ্ন মানুষের মুখে ফুটাবেন তিনি হাসি নিজ চোখে দেখাবেন বিশ্ব।
ডা. শাহরিয়ার রাজন রাজু এমবিবিএস(ঢাকা),ডি.ও(বিএসএমএমই), ফেলোশিপ অন ডায়াবেটিক রেটিনাপ্যাথি(চেন্নাই,ইন্ডিয়া) এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, ধোপাখোলা ময়মনসিংহ।
বাবা ডাঃ মোঃ কামরুজ্জামান একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সেবক। বাবাকে আদর্শ মেনে, বাবার মতো প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে বাবার নামেই গ্রামেই দিয়েছেন অত্যাধুনি চোখের হাসপাতাল। যেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও সার্জনগণ শহরের বাইরে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারেন না সেই বাস্তবতায় ডাঃ রাজু গ্রামের হাসপাতালে নিজেই নিয়মিত চোখের চিকিৎসা ও অপারেশন করে থাকেন।
তাঁর হাসপাতালের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার বহু মানুষ চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন এবং অপারেশনের মাধ্যমে প্রায় তিন হাজার রোগী চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন।
তাঁর কাছে চিকিৎসা গ্রহণ করা একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে তিনি সময় ধরে রোগের বর্ননা শোনেন এবং রোগীর সাথে সুন্দর আচরণ করেন। সর্বদা হাসোজ্জল এ চিকিৎসক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে ইতোমধ্যে ব্যপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছেন। ভালো ডাক্তারের কাতারে স্থান পেয়েছেন। মানবিক এ চিকিৎসক অনেক গরীব অসহায় রোগীদের ফি ছাড়াই চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত পরীক্ষা দেন না ডাক্তারের কাছে নির্ভয়ে সব বলা যায় । একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কোন টেস্ট দেন না।
তিনি যতো ব্যস্তই থাকুন না কেন দরিদ্র অসহায় রোগীদের জন্য তাঁর দরজা সব সময়ই খোলা। তিনি আলোকিত করতে চান গোটা সমাজ কে।রোগীরা জানান, তিনি ডাক্তারদের আদর্শ।
Related News
পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবমুখর গফরগাঁও
স্টাফ রিপোর্টার-ময়মনসিংহ:: বর্ণাঢ্য আয়োজন, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার মধ্য দিয়ে গফরগাঁওয়ে বাংলা নববর্ষRead More
পাগলা থানা যেই নামে উপজেলা’হবে সেই নামে ঘোষণা- অন্য নামে নয়-এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
স্টাফ রিপোর্টার-ময়মনসিংহ::ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা-এর পাগলা থানাকে স্বনামে নতুন উপজেলা ঘোষণা, অন্য নামে নয়-এ দাবিতে সাধারণRead More

