শিরোনাম
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মেয়ের বিয়েতে গিয়ে সর্বমহলে প্রশংসিত গাজীপুরের ডিসিকালিকাপ্রসাদে দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিতগাজীপুরে ভাওয়াল রিসোর্টে ডিজে পার্টিতে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযান: বিপুল মাদকসহ গ্রেফতার ৬পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য আয়োজনে উৎসবমুখর গফরগাঁওপাগলা থানা যেই নামে উপজেলা’হবে সেই নামে ঘোষণা- অন্য নামে নয়-এ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশদেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতা আজমাইনগফরগাঁও সহ দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ফখরুল হাসানগাজীপুরে ৯০ স্টল নিয়ে ৭দিনের বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলার উদ্বোধনত্রিশালে মাদকবিরোধী অভিযান, ইয়াবা-গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতারত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহমেদের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতফ্যামিলি ডে ও অক্সফোর্ড স্কলার্স ফাউন্ডেশনের বৃত্তি পরীক্ষার ক্রেস্ট, সম্মানী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত অটোপাশের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের ওপর ফের হামলাগাজীপুরে হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরুত্রিশালে জাতীয়ভাবে উদযাপিত হতে যাচ্ছে নজরুল জয়ন্তী,সাংস্কৃতিক বিকাশে ব্যাপক প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভানজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে জিএসটি গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত​ত্রিশাল থানায় ৩ বছরের শিশু লাবিব হত্যা: ঘাতক পিতা ও সৎ মা গ্রেপ্তারতেল ষড়যন্ত্র কাঠোরভাবে দমন করা হবে- জিএমপি কমিশনারভুল চিকিৎসা প্রতারণা ত্রিশালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালাবিদেশি বিনিয়োগকারীকে হয়রানির অভিযোগ প্যাসিফিক ফুটওয়্যারের এমডির বিরুদ্ধেগাজীপুরে সাংবাদিক আসাদের ওপর হামলা ও ভাড়াটে কর্মকান্ডের অভিযোগে নারী গ্রেফতার
.
Main Menu

গাজীপুরে সেনাবাহিনীর আহ্বানের পরও থামেনি বন দখলের মহোৎসব

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট

জনতার নিঃশ্বাস প্রতিবেদন:: গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে গাজীপুরের বনভূমি দখল উৎসবে মেতে উঠেন বনভূমিদস্যুরা। এতে শত শত একর সংরক্ষিত বনভূমি দখল হয়ে যায়।  শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনো থামেনি বন দখলের মহোৎসব বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে বনভূমি দস্যুদের দখলের মাত্রা। এ যেন বন দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে,কে কার চেয়ে বেশি বনের গাছ কেটে বন দখল করতে পারে সেটিই এখন মূল বিষয়। মূলত বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের তাদের অফিসের গণ্ডিতে বন্ধি করে ফাঁকা মাঠে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে তারা।  বিশেষ করে রাজেন্দ্রপুর, হোতাপাড়া, ভবানীপুর, মাইজপাড়া, বাঘের বাজার,শ্রীপুর সদর,কালিয়াকৈরে সবচেয়ে বেশি দখল হচ্ছে বনভূমি। নির্বিচারে কাটা হচ্ছে বনের গাছ ও কপিচ। এদিকে বৃষ্টির মৌসুমে তাদের বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী বোঝাই হাজার হাজার গাড়ি প্রবেশ করানোর জন্য আঞ্চলিক প্রায় সকল সড়ক ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। পায়ে হেঁটেও এখন চলাচল করা যাচ্ছে না, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে লাখো মানুষ। যদিও বনদস্যুদের এই কর্মকাণ্ড রুখতে মাঠে এসেছিলো স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিন্তু তাদের কোন ধরণের অনুরোধ কিংবা নিষেধাজ্ঞা মানতে নারাজ বনভূমিদস্যুরা। সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর সদরের ভবানীপুর,নয়াপাড়া,মাইজপাড়া, বাঘের বাজারে দিনকে দিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বনভূমি দখল, কমছে বনভূমি। নিজেদের মধ্যে তৈরি করেছে একটি শক্তিশালী সিণ্ডিকেট।  নতুন যত রুম উঠেছে তার বিপরীতে প্রতিটি রুম থেকে ১০ হাজার করে টাকা তুলছে এরা। তারা দুটো পথে এগুচ্ছে একটি হলো অর্ধকোটি টাকা কালেক্ট হলে সেই টাকা দিয়ে বন বিভাগকে ম্যানেজ করবে এই পথ বন্ধ হলে এই টাকা ব্যবহার করবে বন বিভাগের বিরুদ্ধে। কেউ কেউ এমন চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে গিয়ে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে করছেন নির্যাতনও। গত এক মাসে শুধুমাত্র গাজীপুর সদরের রাজেন্দ্রপুর, হোতাপাড়া, ভবানীপুর ও বাঘের বাজারে প্রায় তিন থেকে চার হাজার নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি গাছ কেটেছে ৫/৬ হাজারেরও বেশি। প্রায় অধিকাংশ বিল্ডিং আবার বহুতল ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে এই এক মাসের ব্যবধানে। মূলত বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ভীত করে তাদের অনুপস্থিতিতে এই দখলবাজী চালাচ্ছে তারা। তাদের নির্বিঘ্নে বন কেটে সাবাড় ও বনভূমি দখল করতে সেনাবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনও করেছে একটি চক্র। বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের একাধিক নেতা ও বিএনপি’র নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি মূলত পরাজিত আওয়ামীলীগ ঘরণার কিছু স্থানীয় নেতারা লোকাল লোকদের ভুল বুঝিয়ে বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এই আন্দোলন। একটি সূত্র দাবি করছে,কেউ কেউ মোটা অংকের ধান্ধা করছেন এই দখল বাণিজ্যে। নয়াপাড়া এলাকায় প্রতিটি ঘরের জন্য দালাল চক্রকে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। কেউ কেউ দখল স্বত্ব কিনে সেটি আবার ঘর করে দিয়ে মোটা অংকের টাকা বাণিজ্য করছেন। মামলা হবে না এমন নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতি শতাংশ বনের জমি বিক্রি করছেন দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা করে। এতে তিন শতাংশের প্লট বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে। তবে বনদস্যু দালালদের কাছে ক্রেতাদের শর্ত ঘর করার পর ভাঙ্গবে না এমনকি মামলাও নিতে পারবে না বন বিভাগ। মনিপুর (হোতাপাড়া) বিটের নয়াপাড়া এলাকায় এমন ভাবে প্লট আকারে জমি বিক্রি করে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কোন কোন দালাল কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নিয়েছেন। অনেকেই  বনের জমিতে ৮/১০ টি রুম করছেন। তারা তাচ্ছিল্য করেই বলছেন ১০ টি রুমে ২৫/৩০ হাজার টাকা প্রতি মাসে ভাড়া পাবো,মামলা হলে তার জন্য ২ হাজার টাকা রেখে দেব। অর্ধশত বছরের গাছ কেটে সাবাড় করছে বেশ নির্বিঘ্নেই। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বন কর্মকর্তারা জানান,আমরা ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি,বিভিন্ন বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি তবে আমরা নিরুপায় এখন। তবে দখলদারের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা হবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যেসকল স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো অচিরেই উচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান বন বিভাগের কর্মকর্তারা। পরিবেশ নিয়ে কাজ করা একাধিক পরিবেশ কর্মীরা জানান, ভূমিহীন ও ভূমিদস্যু দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ভূমিহীন যারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে সরকারি ভূমিতে আশ্রয় নিচ্ছে কিন্তু অপরপক্ষে যারা একরের পর একর জমি বন উজার করে বাণিজ্যিক ভাবে ঘর বানিয়ে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করছে তারা কোন ভাবেই ভূমিহীন নয় বরং ভূমিদস্যু। বিগত দুই যুগেও এতো বন দখল আমাদের চোখে পড়েনি। মাত্র কয়েকদিনে যেভাবে বন উজাড় করে স্থাপনা নির্মাণ করেছে বনদস্যুরা তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা না করলে দেশে বনভূমি বলতে আর কিছুই থাকবে না অদূর ভবিষ্যতে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *