প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতেই বিএনপি কে বিতর্কিত ও বিব্রত করার অপচেষ্টা
ইপেপার / প্রিন্ট
জনতার নিঃশ্বাস প্রতিবেদন::গাজীপুর সদর উপজেলার বেগমপুরে অবস্থিত পলমল গার্মেন্টসে আন্দোলনকে ঘিরে শ্রমিক ছাটাইয়ের পর শ্রম আইন অনুযায়ী অর্থ প্রদান করা হয়। গত ১৪ অক্টোবর ভবানীপুরে অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ছাটাই করা শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়। সব কিছু ঠিক ঠাক থাকলেও বিপত্তি বাধে তৃণমূল গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের নামে একটি ভূঁইফোড় শ্রমিক নেতাদের নামধারী দুই জন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে। ছাটাইকৃত শ্রমিকদের অভিযোগ তাদের অর্থের একটি অংশ জোরপূর্বক শ্রমিক নেতা নামধারী দু’জন নিয়ে নেয়। বিষয়টি নিয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতা পরিচয়দানকারী দু’জন শামীম খান ও ফাতেমা আক্তারের নামে থানায় অভিযোগ হলেও একটি গণমাধ্যমের অনলাইনে ও মাল্টিমিডিয়ায় বিএনপি নেতাদের নামে শিরোনাম করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়,শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে সেই অনুষ্ঠানে পুলিশ,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা ও কারখানা কর্তৃপক্ষ উপস্থিত থাকলেও অভিযোগের তীর বিএনপি’র দুই নেতার উপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়। আবার থানায় দেয়া অভিযোগেও তথ্যের ব্যাপক গড়মিল লক্ষ্য করা গেছে। থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে ২০০ জন শ্রমিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের কথা বলা হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ১৪ অক্টোবর ৮৬ জনের অর্থ প্রদান করেছেন। এছাড়াও কিছু শ্রমিক জানিয়েছে তাদের কাছে শ্রমিক নেতা নামে দুই জন টাকা চাইলেও তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। অপরদিকে সিসি টিভি ফুটেজে পর্যালোচনা করে দেখা যায় শ্রমিকরা স্বেচ্ছায় সেই দুই প্রতারকের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। এবিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন। সেখানে কারখানা কর্তৃপক্ষ বলেছেন কিছু উশৃঙ্খল শ্রমিক পুজার ছুটি দুদিনের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন এসময় কর্তৃপক্ষ একদিনের ছুটি মঞ্জুর করলেও তারা মানেনি। এই কারণে শ্রমিক কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা অভিযুক্ত ৮৬ শ্রমিককে ছাটাই করি। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, পুলিশ,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা,বিজিএমই প্রতিনিধি,কলকারখানা অধিদপ্তরের সহযোগীতায় শ্রম আইন অনুযায়ী ৮৬ জনের পাওনাদি বুঝিয়ে দেই। পরে সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি কোন প্রতারক চক্র শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেয় যা আমাদের কারখানা অবগত ছিল না, আমাদের সামনেও এমন ঘটনা ঘটেনি। সেই অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের কারখানা কর্তৃপক্ষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলেও জানান তারা। এদিকে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতারা জানিয়েছেন,শ্রমিকদের মধ্যে অর্থ বিতরণ শেষে সকলে চলে যায়। তাৎক্ষণিক কোন শ্রমিক জোরপূর্বক টাকা নিচ্ছেন এমন অভিযোগ আমাদের সাথে বা উপস্থিত পুলিশ কিংবা বিএনপি নেতাদের কাছে করেনি।শ্রমিকদের কয়েকজনের সাথে বললে তারা জানান,তৃণমূল শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তাৎক্ষণিক তারা পুলিশ,ছাত্র নেতা কিংবা বিএনপি নেতাদের কাছে অভিযোগ করেছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তারা তাৎক্ষণিক অভিযোগ করেননি বলেও জানান। গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপি’র একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান,গাজীপুরের বিএনপি’র শক্তিশালী ইউনিটের মধ্যে সদর উপজেলা অন্যতম। তাই আওয়ামী পরাজিত শক্তি বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করে এই ইউনিটকে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে এবং বিএনপি নেতাদের মধ্যে ফাটলের সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তারা আরো বলেন,প্রথমে শ্রমিকদের দিয়ে অযৌক্তিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো কিন্তু তা করতে না পেরে এখন সদর উপজেলা বিএনপির নামে একটি মিথ্যা,মনগড়া,বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করছে। কিন্তু পরাজিত শক্তি কোনভাবেই এতে সফল হবে না। আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন কর্মীবান্ধব নেতা। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে রাজপথে ছিলেন। কেউ ইচ্ছে করলে সহজেই তার চরিত্রে কালিমা লেপন করতে পারবে না। পরাজিত শক্তি ও অনুপ্রবেশকারীদের চক্ষুশূল রিজভীর জনপ্রিয়তা তাই খুব সহজেই তাকে টার্গেট করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে অভিযুক্ত দুই শ্রমিক নেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, শ্রমিকরা খুশি হয়ে কেউ পাঁচশো, এক হাজার করে টাকা দিয়েছো। শ্রমিকদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেয়াটা বেআইনী কিনা জানতে চাইলে উত্তেজিত হয়ে ফোন কেটে দেন তারা।গাজীপুর জেলা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ (দপ্তরের দায়িত্বে থাকা) আলহাজ্ব আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন,পরিকল্পিত ভাবে বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে সম্মান হানীর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার নিন্দা জানাই। এই প্রসঙ্গে গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন রিজভী বলেন,আমি ছাত্র জীবন থেকেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে যাচ্ছি। আমি ছাত্রদল,যুবদলের রাজনীতির পর সদর উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমার এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বহু জেল,জুলুম মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি কিন্তু আদর্শচ্যুত হইনি। পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসররা এখনো আমাকে আদর্শচ্যুত করতে পারবে না। বিএনপি এদেশের মানুষের হৃদয়ে আছে ও থাকবে কারোর অপপ্রচারে জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়বে না। আমি আমৃত্যু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়েই থাকবো ইনশাল্লাহ।
Related News
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মেয়ের বিয়েতে গিয়ে সর্বমহলে প্রশংসিত গাজীপুরের ডিসি
হাফিজুর রহমান:: হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির মেয়ের বিয়েতে অংশগ্রহণ করে নগরবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেনRead More
কালিকাপ্রসাদে দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছাবির উদ্দিন রাজু,সাব-এডিটর:: মানবিক উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কালিকাপ্রসাদ এলাকায় দিনব্যাপী ফ্রি হেলথRead More

