ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে কেমিকেল কারখানা: স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বড় ধরণের দূর্ঘটনার শঙ্কা
ইপেপার / প্রিন্ট
জনতার নিঃশ্বাস প্রতিবেদন:: পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম পরিচালনার কোন সুযোগ না থাকলেও গাজীপুর সদর উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে চলছে কেমিটেক্স ও কেমিকন নামে দুটি কারখানা। ২০২২ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন কেমিটেক্স কারখানাটি সিলগালা করে দিলেও পরবর্তীতে পাশেই নিজস্ব ভবনে চলছে এই কারখানা। কেমিক্যাল কারখানা, গুদাম পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ছাড়পত্র বা লাইসেন্স গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে সূত্রমতে পর্যাপ্ত কাগজপত্র নেই এসব কারখানার। সূত্র আরো নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপ-পরিচালক নয়ন মিয়া মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব ক্ষতিকারক বিপদজনক রাসায়নিক কারখানা ও গোদামের অনুমোদন দিয়েছেন। কেমিকন কারখানা কর্তৃপক্ষ ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তাদের পরিবেশের ছাড়পত্র থাকার কথা বললেও এলাকাবাসীর দাবি তাদের যাতে এমন ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে আবার ছাড়পত্র দেয়া না হয়। এর ঠিক পাশেই খোলা স্থানে যত্রতত্র রাখা হচ্ছে কেমিকেল তৈরির উপাদান ও পাশেই অনিরাপদ গোডাউন। ঘনবসতিপূর্ণ স্থান হওয়ায় এবার এই কেমিকেল কারখানা ও গোডাউন বন্ধের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। “নয়াপাড়ায় অবৈধ কেমিক্যাল কোম্পানী ও রাসায়নিক গোদাম: স্থানীয়দের শরীর জ্বালা পোড়াসহ বিভিন্ন রোগের উপস্থিতি” শিরোনামে সাপ্তাহিক জনতার নিঃশ্বাস পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ২০২২ সালের ১৯ অক্টোবর সেই কেমিক্যাল কোম্পানীটিতে গাজীপুর সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাফে মোহাম্মদ ছড়া’র নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছিলো।সেসময় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ১২ নম্বর ধারা অনুসারে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের জেল দেয়া হয় সেই সাথে পরিবেশ ছাড়পত্র না নেয়া পর্যন্ত কোম্পানীটি সিলগালা করা হয়েছে। কিন্তু এর কিছু দিন পরই ভাড়া ভবন ছেড়ে পাশেই নিজস্ব ভবনের মধ্যে তাদের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে প্রকাশ্যেই। কেমিটেক্স নামে সেই কোম্পানীটির পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকলেও ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে তারা কেমিক্যাল দিয়ে পণ্য বানাচ্ছে। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েছে। অপরদিকে বনের জমি দখল করে তৈরি করেছে বিশাল আকৃতির অরক্ষিত রাসায়নিক বর্জ্য ফেলার গর্ত। অন্যদিকে এর পাশেই আরেকটি কেমিক্যাল কোম্পানী কেমিকন,মালিক পক্ষের দাবি তাদের কিছু কাগজপত্র রয়েছে কিন্তু বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি তাদের পর্যাপ্ত কাগজ পত্র নেই। অন্যদিকে কেমিকন কারখানাটির পাশেই উন্মুক্ত স্থানে তাদের কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম রাখছেন এলোমেলো এবং অনিরাপদ ভাবে। কেমিকনের গোডাউনের ভিতরেই শ্রমিকদের মেস। ধারণা করা হচ্ছে এই গোডাউনে রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ থাকতে পারে। যেহেতু গোডাউনের ভেতরেই মেস সেই কারণে রান্নার আগুণের অসাবধানতার কারণে বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া অগ্নিকাণ্ড মোকাবেলায় চোখে পড়ার মতো তাদের কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দেখা যায়না। ফলে স্থানীয়রা বেশ আতঙ্কিত অবস্থায় দিন যাপণ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, কারখানাগুলো এমন গ্যাস ব্যবহার করে যার ফলে এলাকার মানুষের চোখ,নাক মুখ জ্বালা পোড়া করে। বিশেষ করে গভীর রাতে তাদের কার্যক্রমের মাত্রা বেড়ে যায় যে কারণে কেউ গভীর রাতে ঘরের বাহিরে বের হলেই সেই গ্যাসের অস্তিত্ব সহজেই টের পাই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় এসব রাসায়নিক গুদামের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমরা আমাদের এলাকা নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে আছি। ছোট্ট একটা এলাকায় একাধিক রাসায়নিক কারখানা ও গোদাম আমাদের এখন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের রাসায়নিক এতোই বিষাক্ত যে এখানকার গাছপালা থেকে শুরু করে ঘাস পর্যন্ত পুড়ে যায়। কেমিকনের মালিক মো. ইয়ামিন আওয়ামীলীগের সময়ে বেশ প্রভাবশালী থাকায় তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারেনি না স্থানীয়রা। তিনি স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে নিজের কোম্পানীর সুরক্ষায় মাসোয়ারা দিয়ে আসছেন। সেই যুবলীগ নেতাই স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে। একই সাথে সরকারি বন বিভাগের জায়গায় বড় একটি গর্ত করে সেখানেও ফেলা হচ্ছে কেমিক্যালের অস্বাস্থ্যকর ময়লা আবর্জনা। দৈনিক বণিক বার্তায় প্রকাশিত “পীর সাহেব গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী মুরিদরা সুুবিধাভোগী ঠিকাদার” শীর্ষক শিরোনামে অভিযোগ করা হয় এইচবিআরআইয়ের মহাপরিচালক থাকাকালীন পীর সাহেবের আরেক ঘনিষ্ঠ মুরিদ ছিলেন মোহাম্মদ ইয়ামীন। ক্যামিকন গ্রুপ নামের একটি কেমিক্যাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি। প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতনে ইয়ামীনকে স্যান্ড সিমেন্ট ব্লক তৈরির কাজে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেন এইচবিআরআইয়ের তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্মদ শামীম আখতার।কোনো টেন্ডার ছাড়াই আড়াই কোটি টাকার কাজ দেন ইয়ামীনকে।নিযুক্ত করেন গবেষণার কাজে। এইচবিআরআইয়ের টাকায় গবেষণা করা উৎপাদন করা কেমিক্যাল এইচবিআরআইয়ের কাছেই বিক্রি করেছেন ইয়ামীন। অভিযোগ রয়েছে সেই কথিত পীরের আশির্বাদেই তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরকে চাপের উপর রেখেছিলেন আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ই। তার বিপুল পরিমাণ সম্পদও রয়েছে কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাসায়নিক কারখানা করা অপরাধ বলে জানিয়েছিলেন একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন। সে হিসেবে গাজীপুর সদর উপজেলার প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১৩০০ লোকের বাস। শিল্পাঞ্চল হবার কারণে এখানে লোকের সংখ্যাও বেশি। তাই প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের দাবি দ্রুতই এসব কেমিক্যাল কোম্পানী গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের। বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি কারখানা কর্তৃপক্ষ। এমনকি সাংবাদিক প্রবেশেও নিয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
Related News
কালিকাপ্রসাদে দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছাবির উদ্দিন রাজু,সাব-এডিটর:: মানবিক উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কালিকাপ্রসাদ এলাকায় দিনব্যাপী ফ্রি হেলথRead More
গাজীপুরে ভাওয়াল রিসোর্টে ডিজে পার্টিতে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযান: বিপুল মাদকসহ গ্রেফতার ৬
গাজীপুর প্রতিনিধি:: গাজীপুর সদর উপজেলাধীন মির্জাপুর এলাকার ‘ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা’-তে আয়োজিত একটি ডিজে পার্টিতেRead More

