বিদ্যুতের ঝুলে থাকা তারে বিদ্যুৎপৃষ্টে তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দায় এড়িয়ে গেলেন পল্লী বিদ্যুতের জিএম আকমল
ইপেপার / প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক:: গাজীপুরের শ্রীপুরে পিকনিকে যাওয়ার পথে পল্লী বিদ্যুতের ঝুলে থাকা ১১ হাজার বোল্টের তার বাসে লাগার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইসলামিক ইউনির্ভাসিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের চার কর্মকর্তা ও তিন লাইনম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে দায় এড়িয়ে গেলেন ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আকমল হোসেন। সায়মিক বরখাস্ত ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২–এর উপমহাব্যবস্থাপক (সদর-কারিগরি) কমলেশ চন্দ্র বর্মণ, গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. তানভীর সালাউদ্দিন, জুনিয়র প্রকৌশলী মতিউর রহমান, লাইনম্যান পারভেজ মিয়া ও আবুল কাশেম। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তাদের বরখাস্তের আদেশ দেয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সেই সাময়িক বরখাস্তের পত্রে বলা হয়েছে,পূর্ব থেকেই দূর্ঘটনাস্থলের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ঝুঁকি মুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করার জন্য তাদের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্মচারি চাকুরি বিধি ১৯৯২ (সংশোধিত ২০১২) এর ৩৮ (১) এর (ঘ) ধারা অনুযায়ী দায়িত্ব অবহেলার শামিল। যে কারণে তাদের সাময়িক বহিস্কার করা হয়। তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবি এই অবহেলার ঘটনায় কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেনা ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আকমল হোসেন।
তবে সূত্রের দাবি তিনি এই অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করেছেন। যার কারণে ডিজিএমকে সাময়িক বহিস্কার করা হলেও জিএম আকমল হোসেন থেকে যান ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাৎক্ষণিক এই হতাহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এখানে পল্লী বিদ্যুতের এমন অনেক সংযোগ ও লাইন রয়েছে যা অরক্ষিত ও বিপদজনক। পল্লী বিদ্যুত অফিসে বার বার অভিযোগ করা হলেও নেয়া হয়না তেমন কোন ব্যবস্থা। উর্ধ্বতন মহলে জানানো হলেও কাজ হয়না বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আকমল হোসেন তিনি নিজে দায় এড়াতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমার কোন কিছু জানা নেই। তবে আমি কোনভাবেই দায়ী নই। এমন অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পল্লী বিদ্যুতের লাইনের কারণে আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের এমন প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।
প্রসঙ্গত: গত ২৩ নভেম্বর সকাল ১০ টায় গাজীপুরের শ্রীপুরের উদয়খালী গ্রামে আঞ্চলিক সড়কে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত হয়। নিহতরা গাজীপুরের ইসলামিক ইউনির্ভাসিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) মেকানিক্যাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে মোট ৪৬০ জন বিআরটিসির ৬টি দ্বিতল বাসে করে বার্ষিক বনভোজনে শ্রীপুরের একটি রিসোর্টে যাচ্ছিলেন। গন্তব্যের মাত্র দেড় কিলোমিটার আগে শেষ বাসটি সড়কে ঝুলে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ১১ হাজার বোল্টের তারে জড়িয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। নিহত তিন শিক্ষার্থী হলেন ফেনীর মাস্টারপাড়া এলাকার মোতাহার হোসেনের ছেলে মীর মোজাম্মেল নাঈম (২৩), রাজশাহীর রাজপাড়া ডিঙ্গাব এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জোবায়ের আলম সাকিব (২২) ও রংপুর সদরের ইমতিয়াজুর রহমানের ছেলে মুবতাছিন রহমান মাহিন (২২)। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাকিবুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালমা খাতুনকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
Related News
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মেয়ের বিয়েতে গিয়ে সর্বমহলে প্রশংসিত গাজীপুরের ডিসি
হাফিজুর রহমান:: হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির মেয়ের বিয়েতে অংশগ্রহণ করে নগরবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেনRead More
কালিকাপ্রসাদে দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
ছাবির উদ্দিন রাজু,সাব-এডিটর:: মানবিক উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কালিকাপ্রসাদ এলাকায় দিনব্যাপী ফ্রি হেলথRead More

