মোঃ ছাবির উদ্দিন রাজু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের গকুলনগর বাজারে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গতকাল ১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং, সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ ঘটিকার সময় নবীপুর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার পুত্র আগানগর ইউনিয়ন নবীনলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন মিয়াকে একই বংশের মৃত সিরফত আলীর পুত্র হক মিয়া (৬০), আসাদ মিয়ার পুত্র রায়হান (২২),মারুফ (২০),বাপ্পি (১৮), মৃত আঃ আজিজ এর পুত্র আলাউদ্দিন (৫৫), আলাল উদ্দিন এর পুত্র শফিকুল (৩৫), বাবুল (২৫) সংঘব্ধ হয়ে বেদরক মারধর করে বাম হাত ভেঙ্গে দিয়েছে এবং মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গে ভারি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় ভৈরব উপজেলা স্থাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
উক্ত ঘটনায় আহত নবীনলীগ নেতা সুমনের বড় ভাই সাজিদ মিয়া বাদী হয়ে গতকাল রাতে ভৈরব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার সংবাদ পেয়ে আহত সুমন কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে আসেন ভৈরব পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ইফতেখার হোসেন বেনু,উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও মুর্শিদ মজিব উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এর সভাপতি ইকবাল হোসেন সহ আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ,ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীবৃন্দ।
এব্যাপারে আহত সুমনের বড়ভাই সাজিদ মিয়া বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন দীর্ঘদিন যাবত আমাদের সহিত রেষারেষি ও শত্রুতা পোষন করিয়া আসিতেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ আগস্ট ২০২২ ইং বিকাল আনুমানিক ৪ ঘটিকায় গকুলনগর বাজারে উক্ত রায়হান ও মারুফ এর সহিত আমার ছোট ভাই সুমন মিয়া (৩০) এর সামান্য কথা কাটাকাটি হইলে উক্ত আমার ভাই সুমন মিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরের হুমকি প্রদান করিয়া তাহাকে ধাক্কা মারিয়া তাড়াইয়া দেয়। উক্ত ঘটনার পর গতকাল ১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ ঘটিকায় আমার ভাই সুমন মিয়াকে গকুলনগর বাজারে দেখিতে পাইয়া মৃত সিরফত আলীর পুত্র হক মিয়া (৬০), আসাদ মিয়ার পুত্র রায়হান (২২),মারুফ (২০),বাপ্পি (১৮), মৃত আঃ আজিজ এর পুত্র আলাউদ্দিন (৫৫), আলাল উদ্দিন এর পুত্র শফিকুল (৩৫), বাবুল (২৫) সংঘব্ধ হয়ে
দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়া আমার ভাই এর উপর হামলা চালায়। হক মিয়া হুকুম দিয়া বলে “শালার বেটাকে আজকে জানে মারিয়া ফেল”। উক্ত হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে রায়হানের হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়া আমার ভাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া কুপ মারিলে উক্ত কুপ আমার ভাই এর মাথায় লাগিয়া মারাত্মক রক্তাক্ত কাটা জখম করে। মারুফ এর হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়া আমার ভাইকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তার মাথা লক্ষ্য করিয়া কুপ মারিয়া তাহার মাথার পিছনের অংশে মারাত্মক রক্তাক্ত কাটা জখম করে। বাপ্পি ও আলাউদ্দিন এর হাতে থাকা লোহার শাবল দিয়া আমার ভাই এর বাম হাতে এলোপাতারিভাবে বাইরাইয়া মারাত্মক হাড় ভাঙা জখম করে। মারামারির এক পর্যায়ে শফিকুল ও বাবুল আমার ভাই এর সাথে থাকা একটি স্মার্ট ফোন যাহার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫,০০০/- (পনের হাজার) টাকা নিয়া যায় এবং আমার ভাইকে মাটিতে ফালাইয়া এলোপাতারিভাবে লাথি মারিয়া মারাত্মক নীলাফোলা জখম করে। মারপিটের একপর্যায়ে আমার ভাই প্রাণ বাঁচাতে ডাক চিৎকার শুরু করিলে তার ডাক চিৎকার শুনিয়া আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিয়া তাকে উদ্ধার করে। আশেপাশের লোকজনের প্রতিবাদের মুখে আমার ভাইকে বিভিন্ন ধরনের প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করিয়া চলিয়া যায়। আমি খবর পাইয়া আগাইয়া আসিয়া আমার ভাইকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নিয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
উক্ত ঘটনায় নবীপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন এর পুত্র মোস্তু মিয়া বলেন, আমরা আহত সুমন কে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
এব্যাপারে আগানগর বিট পুর্লিশিং অফিসার ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক রিগান মোল্লা বলেন, উক্ত ঘটনায় আহত সুমন মিয়ার বড় ভাই সাজিদ মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।