বুধবার , ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং || ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৪ঠা জিলক্বদ, ১৪৪৭ হিজরী

চার দফায় পরীক্ষার পর স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইন

প্রকাশিত হয়েছে-

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চার দফায় পরীক্ষার পর স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে যাচ্ছে ইতালি থেকে আসা বাংলাদেশিরা।

গত দুই দিনে যারা ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন, তাদের বেশিরভাগই ইতালিতে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।

রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান স্বাস্থ‌্য কর্মকর্তা ডা. শাহারিয়ার সাজ্জাদ বলেন, একজন দুইজন বাদে ইতালি থেকে আসা বাংলাদেশি সকলের সেদেশে কোয়ারেন্টাইনে থাকার সনদ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন যে, ইতালিতে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে না থাকলে ২০০ ইউরো জরিমানা ও তিনমাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে এখন কোয়ারেন্টাইনে না থাকার উপায় নেই।

তিনি জানান, বর্তমান সময়ে বেশি আক্রান্ত চার দেশ থেকে আসা বাংলাদেশিদের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। আমরা সেই ভাবেই আন্তরিক ভাবে কাজ করছি।

যখন তারা ইতালি থেকে বিমানে উঠেছেন, তখন তাদের পরীক্ষা করে বিমানে উঠানো হয়েছে জানিয়ে ডা. শাহারিয়ার সাজ্জাদ বলেন, সেখান থেকে তারা যখন দুবাইয়ে নেমেছে, সেখানেও তাদের পরীক্ষা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে যখন আসছেন, সেখানেও তাদের প্রাথমিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। তারপর তাদের পাঠানো হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট করা কোয়ারেন্টাইন আশকোনা হজ ক্যাম্পে । সেখানে তাদের আবার পরীক্ষা ও বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করে তাদের বিভিন্ন তথ্য যোগাযোগের ঠিকানা বা নাম্বার রেখে তারপরে হোম কোয়ারেন্টাইন বা স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে।

‘তার মানে আপনি দেখেন যে, ইতালি থেকে তাদের স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় পরীক্ষা করা হচ্ছে ।’

জানা গেছে, আশকোনা হজ ক্যাম্প কোয়ারেন্টাইন থেকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর সময় তাদেরকে বলে দেওয়া হচ্ছে যে, যদি কোন প্রকার লক্ষণ দেখা দেয়, তিনি হাসপাতালে বা বাড়ির বাইরে কোথাও না গিয়ে যেন হটলাইনে ফোন করেন।

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, সংবাদ সম্মেলনে বিদেশ থেকে আসাদের উদ্দেশে বলেন, কোন লক্ষণ দেখা দিলে আমাদের হটলাইনে ফোন করুন। আমাদের টিম বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে। যদি হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, অ‌্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে আমরাই হাসপাতালে নেয়ার ব্যবস্থা করব।

ইতোপূর্বে যারা ইতালি থেকে আসা দুজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, তাদের উদাহরণ টেনে ডা. শাহারিয়ার সাজ্জাদ বলেন, আমাদের নার্সরা তাদের সাথে কথা বলেছেন। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তাদেরকে নাম্বার দিয়ে দিয়েছেন। লক্ষণ সম্বলিত কাগজ দিয়ে দিয়েছেন। তারা বাড়িতে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় যখন ওইসব লক্ষণ দেখেছেন, তখন তারা আইইডিসিআর এ ফোন করে যোগাযোগ করেছেন। আইইডিসিআর নমুনা সংগ্রহ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমাদের দিক থেকে আমরা কোন ত্রুটি করছি না। সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করছি।

তিনি জানান, রোববার সকালে ইতালি থেকে ১৫২ জন দেশে আসে। তার আগে রাতে আসা ৫৯ জনের মধ্যে ১৪ জনকে আমরা গাজীপুরে একটি মেডিকেল ট্যানিং স্কুলে পাঠিয়েছি। এর আগে শনিবার সকালে ইতালি থেকে দেশে আসে ১৪২ জন। তাদেরকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আজ ইতালির রোম থেকে আরও ৩৪ জন দেশে ফিরছেন।