মোকাম্মেল হোসেন মুস্তাক, শেরপুর থেকে::
শেরপুরে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সেই তথ্য গোপন করে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার মামলায় প্রতারক স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার একমাত্র আসামি শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা গ্রামের বাসিন্দা সাজাপ্রাপ্ত শাহ আলী (৪৭) মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. গোলাম কিবরিয়া বুলু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সদর উপজেলার বয়রা গ্রামের বাসিন্দা ভিকটিম বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি যৌতুকের মামলা চলমান থাকাবস্থায় শাহ আলী ২০১৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পন করে। ওইদিন সে আদালতকে জানায় যে ভিকটিমকে সে ২০১২ সালের ১৩ মে তালাক দিয়েছে।
এদিকে ২০১২ সালের ১৩ মে থেকে ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ আড়াই বছর সময় ধরে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি গোপন রেখে ভিকটিমের সাথে ঘরসংসার এবং শারীরিকভাবে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে সাজাপ্রাপ্ত শাহ আলী।
ঘটনাটি জানার পর ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারী শাহ আলী এবং তার বাবা-মাকে সহ ৪ জনকে আসামী করে ভিকটিম বাদী হয়ে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগে থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হলেও আদালত ৩ জনকে বাদ দিয়ে শাহ আলীর বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। দীর্ঘ বিচারকার্য চলাকালে বাদী, তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক সহ ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার অভিযুক্ত পলাতক শাহ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ের আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।