বৃহস্পতিবার , ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং || ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরী

পানি বেড়েছে ধলেশ্বরীতে

প্রকাশিত হয়েছে-

জনতার নিঃশ্বাস:

মানিকগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর ফলে পানি বেড়েছে ধলেশ্বরীতে কিন্তু যমুনার কালীগঙ্গায় স্থিতিশীল রয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) আরিচা যমুনা পয়েন্টের পানি আগের মতো বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটিার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, জেলার অভ্যন্তরীণ কালীগঙ্গা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ধলেশ্বরী নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটিার বেড়ে বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটিার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালীগঙ্গা নদীর তরা পয়েন্টের গেজ রিডার মো. রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ধলেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা ও সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ তথ‌্য জানিয়েছেন ধলেশ্বরী নদীর জাগীর পয়েন্টের গেজ রিডার মো. বদর উদ্দিন।

জেলা প্রশাসন জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) জেলায় বন্যায় প্রায় ৩১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রদিনিই নতুন নতুন ফসলি জমির ক্ষতি হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর ফসলি জমির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রায় দেড় হাজার গবাদি পশু পানিবন্দি আছেন। গত কয়েকদিনে বন্যার পানিতে নতুন করে নদী ভাঙনে পাঁচটি উপজেলায় ১২ হাজার ৫৯০ মিটার জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইন উদ্দিন বন্যা পূর্বাভাস সম্পর্কে জানান, জেলার অভ্যন্তরীণ নদীর পানি বেড়েই চলেছে। তবে ২৮ জুলাই পর্যন্ত পদ্মা যমুনার পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ নদীর পানি আরো বাড়তে পারে। সিয়গাইর বাদে বাকি সবগুলো উপজেলাতেই বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

জেলা প্রশাসক এস.এম.ফেরদৌস জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলায় ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। হরিরামপুর উপজেলায় ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৭৮টি পরিবার ও ৪৭০টি গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে।  দৌলতপুর উপজেলায় ৬০টি পরিবার আশ্রয়কন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।