হাফিজুর রহমান:
সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহার এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জুনায়েদ হুসাইন টিপু। গতকাল একান্ত আলাপচারীতায় এসব কথা বলেন ছাত্রলীগের এই নেতা। তিনি বলেন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ যে ভাষার জন্য আন্দোলন করে জীবন দিয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষা শহীদ ও ভাষা সৈনিকদের প্রতি তখনই শ্রদ্ধা জানানো হবে যখন সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রয়োগ হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখনও মুঠোফোনে বার্তা গুলো ইংরেজি ভাষায় যা আমার দেশের মানুষ পড়তে বা বুঝতে পারে না। বিভিন্ন সাইনবোর্ড ইংরেজিতে, বিদ্যুৎ বিলসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও ইংরেজি ভাষার ব্যবহার আমাদের মর্মাহত করে। আমাদের সংবিধানের প্রথম ভাগের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে বলা আছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা।’ এর মানে সংবিধান যেদিন প্রণীত হলো, সেদিন থেকেই এই রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। আমরা দেখছি, প্রশাসনে বাংলার ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু এর উল্টো দিকে অন্ধকারও আছে।
১৯৮৭ সালে দেশে বাংলা ভাষা প্রচলন আইন হয়েছে। আইন করার পরে যে সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন হয়েছে, সেটা আমরা বলতে পারি না। উচ্চ আদালতে বাংলা চালু হয়নি। সেখানে আইনি পরিভাষার দোহাই দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকজন সম্মানীয় বিচারপতি বাংলা ভাষায় রায় দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে বাংলা ভাষায় রায় দেওয়া যায়। আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও জটিলতা থেকে গেছে। যেখানে আমরা বাংলার প্রচলন করতে পারিনি। রাষ্ট্রের একটা ভাষানীতি এবং ভাষা–পরিকল্পনা থাকা দরকার। আর তা দরকার একটা ভবিষ্যৎ-মুখী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। আমাদের এসব হয়নি। হ্যাঁ, অন্য ভাষা শিখতে হবে। কিন্তু সেটা আমাদের বাংলা ভাষা বাদ দিয়ে তো নয়। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, আমরা যদি এই প্রশ্নগুলো তুলতে পারি তবেই মনে হয় এসকল সমস্যার সমাধান সম্ভব।
টিপু দূঢ়তার সাথে বলেন,সর্বস্তরে বাংলা ভাষা অচিরেই বাস্তবায়িত হবে বলে আমার বিশ্বাস।