হানিফ আকন্দ,ত্রিশাল প্রতিনিধি:: ময়মনসিংহের ত্রিশালে গড়ে উঠা ৫৮টি ইটভাটার মধ্যে ৪০টি ইটভাটাই সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে চলছে।মহামান্য হাইকোর্ট লাইসেন্স-ছাড়পত্র না থাকলেই সেটা অবৈধ হিসেবে রায় দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ইটভাটা ধ্বংস করার কথা থাকলেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন ইটভাটার মালিকরা। শুধু তাই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এমনকি কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোতে প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, যা স্থানীয় জনজীবন ও কৃষির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সরেজমিনে গেলে হরিরামপুর ইউনিয়নের নবাব ব্রিকসসহ বেশ কয়েকটি ইটভাটায় কাঠ পুড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ইটভাটার সংখ্যা ৫৮টি। এর মধ্যে বৈধ ছাড়পত্র নিয়ে চালানো হচ্ছে মাত্র ১৮টি। বাকী ৪০টি চলছে ছাড়পত্র ও লাইসেন্সবিহীন।স্থানীয়দের দাবি,সরকারি আইনে কৃষি জমি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু তা সত্ত্বেও কমপক্ষে প্রতিটি ইটভাটার জন্য কয়েক একর কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন করেছে প্রভাবশালীরা। প্রতি বছরের মতো এবারো চলতি মৌসুমের শুরুতেই কৃষিজমি ও নদীর পলি মাটি কেটে ইটভাটাগুলোতে প্রস্তুত করা হচ্ছে নতুন ইট।এতে উপজেলায় কৃষিজমি হ্রাস ও উদ্বেগজনকভাবে খাদ্যশস্য উৎপাদন কমছে। ইট ভাটার লাইসেন্স পেতে প্রস্তাবিত আবেদন পত্রের সঙ্গে ইট তৈরিতে মাটির উৎস উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে হফলনামা দাখিলের বাধ্যতামূলক শর্ত থাকলেও ভাটা মালিকদের অধিকাংশই তা মানছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বৈধ ইটভাটামালিক বলেন, ইটভাটা মালিক সমিতির শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব, অর্থবিত্ত ও তদবিরে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা অবৈধ ভাটা উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। প্রতি বছর কিছু সংখ্যক ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরবর্তী সময়ে অদৃশ্য কারণে তা থেমে যায়। পরিবেশবিদরা বলছেন, মাটির উপরিভাগে (টপ সোয়েল) বৃষ্টি, বন্যার পানি, গাছপালা পঁচার কারণে উর্বর শক্তি থাকে। সেই সাথে পরিবেশবান্ধব অনুজীব থাকে। মাটি কেটে পোড়ানোর কারণে টপ সোয়েল টোটালি ধ্বংস করে ফেলছে। ফলে উর্বরাশক্তি হারাচ্ছে। এছাড়া মাটি কাটার ফলে ওই জমি কৃষি কাজ কিংবা জলাশয় কোনো কাজেই আসছে না। পাশাপাশি নির্মল বায়ু দূষিত হচ্ছে। ধোঁয়ার সাথে ক্ষার ছড়াচ্ছে। মানুষের নিঃশ্বাসে ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করছে। গাছের বেঁচে থাকার শক্তি নষ্ট হয়ে হচ্ছে। আফাজ উদ্দিন (ছদ্মনাম) এক অবৈধ ইটভাটার মালিক জানান, ত্রিশালে অধিকাংশ ইটভাটাতেই কাঠ পোড়ানো হয়। কয়লার খরচ বেশি হওয়ায় তারা এই পন্থা অবলম্বন করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, “বাংলাদেশে কয়টা ইটভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র আছে? সবাই এভাবেই ইটভাটা চালাচ্ছে। তাছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিগত সরকারের আমল থেকেই বন্ধ রয়েছে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। বেশ কয়েকটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানাসহ ইটভাটার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকী ইটভাটাগুলোতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বুধবার , ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ ইং || ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১৫ই রমযান, ১৪৪৭ হিজরী
ত্রিশালে ৫৮টি ইটভাটার মধ্যে ৪০টিই অবৈধ
প্রকাশিত হয়েছে-