বুধবার , ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং || ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৫ই জিলক্বদ, ১৪৪৭ হিজরী

ত্রিশালের এসিল্যান্ড মাহবুবুর রহমানের প্রশংসনীয় উদ্যোগ ভূমি সেবায় দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

প্রকাশিত হয়েছে-

হানিফ আকন্দ,ত্রিশাল প্রতিনিধি:: ভূমি সেবা, একসময় এই শব্দটার সাথে জড়িয়ে ছিল ভোগান্তি, হয়রানি আর দালালদের দৌরাত্ম্যের এক হতাশাজনক চিত্র। কিন্তু সেই পুরনো ধারণাকে ভেঙে দিয়ে এক মানবিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ত্রিশালের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান।মাত্র এক বছরেই তিনি ভূমি অফিসের কার্যক্রমে এনেছেন এক অভাবনীয় পরিবর্তন, যা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল ত্রিশালে যোগদানের পর থেকেই তিনি ভূমি অফিসের পরিবেশকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। তাঁর কঠোর পদক্ষেপের কারণে অফিসের আশেপাশে লুকিয়ে থাকা দালালচক্রের প্রভাব নেই বললেই চলে। এখন কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই সাধারণ মানুষ জমির নামজারি, জমাভাগ, খারিজসহ সব ধরনের সেবা পাচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের মুখে এখন স্বস্তির গল্প শোনা যায়। জামাল উদ্দিন নামের একজন বলেন, “আগে যেকোনো কাজের জন্য গেলেই দালালদের কাছে জিম্মি হতে হতো। তারা মোটা অঙ্কের টাকা নিত। এখন এসিল্যান্ড স্যারের কারণে আমরা হয়রানি মুক্ত হয়েছি।” কানিহারী ইউনিয়নের সাইফুল ইসলামের কথায়, “এই এসিল্যান্ড আসার পর থেকে আমরা খুব সহজে জমির সমস্যার সমাধান করতে পারছি। তিনি সত্যি খুব ভালো মানুষ।” একাধিক ভুক্তভোগী নিশ্চিত করেছেন যে, ভূমি অফিসে দালালদের এখন আর কোনো আনাগোনা নেই। মানুষ এখন সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারছেন এবং দ্রুত তার সমাধানও পাচ্ছেন। এসিল্যান্ড মাহবুবুর রহমানের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু ত্রিশাল উপজেলাই নয়, বরং ভূমি সেবার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তাঁর এই দায়িত্বশীল পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে।সএ বিষয়ে এসিল্যান্ড মাহবুবুর রহমান বলেন, “ভূমি মানুষের মৌলিক অধিকার। ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় যেন সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়, সেই বিষয়টি আমি সবসময় গুরুত্ব দিই। আমার কাছে সেবা নিতে আসা প্রত্যেক মানুষই সমান। আমি চেষ্টা করি স্বল্প সময়ে তাদের সমস্যার সমাধান করতে। আমার অফিসের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সহযোগিতায় আমরা ভূমি সেবায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি।” তাঁর এই সাহসী এবং মানবিক উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এটি অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।