বৃহস্পতিবার , ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ ইং || ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরী

ভালুকায় বেড়েছে কিশোর গ্যাং এর উৎপাত,অতিষ্ঠ মানুষ চায় নিরাপত্তা

প্রকাশিত হয়েছে-

হানিফ আকন্দ,ত্রিশাল প্রতিনিধি:: ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধিতপুর ও শান্তিগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকায় দিন দিন মাদক এবং কিশোর গ্যাং এর উৎপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় মাদকের কেনাবেচা ও চুরি ছিনতাই বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোর গ্যাং এর উৎপাতের কারণে পার্শ্ববর্তী বাজার এবং রাস্তাঘাট স্কুল মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রী চলাচলের বিঘ্ন ঘটছে। মাদকের বিক্রি দিনে দিনে বেড়েই চলছে। বিশেষ করে ইটের ভাটা এলাকাগুলিতেই এ ধরনের মাদক বিক্রয় বেশি হচ্ছে। এসব কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন এদের যন্ত্রনায়। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি,এই কিশোর গ্যাং এর আশ্রয় দাতাদের নাম তাদের ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই জানা যাবে। কাদের ইশারায় চলে এই কিশোর গ্যাং শক্তিশালী মহল। দীর্ঘদিন যাবৎ লালিত পালিত করে আসছেন কারা। কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ ও র‌্যাব এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন অভিভাবক মহল।সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজার এলাকার বিভিন্ন চা-দোকানের ভেতর কিশোরদের আড্ডাবাজি চলছে। রাস্তার সঙ্গে ওই দোকানগুলো হওয়ায় চলাচলরত স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়া পাড়া মহল্লার রাস্তায় দলবদ্ধভাবে আড্ডা দেয়। এমন কি বিভিন্ন সময় অভিভাবকদেরও নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের উৎপাতের ভয়ে কেউ কারও কাছে মুখ খুলতে সাহস পায় না। শুধু বাস স্ট্যান্ডই না, এমন চিত্র দেখা গেছে এই এলাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে।  কয়েকজন অভিভাবক বলেন, প্রায় সময়ই কিছু কিশোর ছেলেপেলে এলাকার বিভিন্ন চা-দোকানের সামনে জোটবদ্ধ হয়ে বসে থাকে। যখনই কোনো স্কুলছাত্রী বা মেয়ে আসে তখনই তারা নানা ধরনের অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করতে থাকে। এবং ওই ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে ইভটিজিং করতে থাকে। এলাকার কিশোর ছেলেপেলে দলবদ্ধভাবে আড্ডা দেয়। ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। প্রশাসন এ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার পরও কিশোর গ্যাং এর অপরাধীদের কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। হেন অপরাধ নেই যা তারা করছে না।  মাদকের ছড়াছড়ি আর সন্ত্রাসের উপাদানগুলো হাতের কাছে পাওয়ায় কিশোর অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্বিধা করছে না কোন অপরাধ করতে। ‘বড় ভাইদের’ সহযোগিতা পেয়ে তারা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। কে কোনো সময় খুন, গুম কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হবে তা বলার কোনো উপায় নেই। সাধারণ মানুষের অসহায় এ অবস্থা থেকে মুক্তি না মিললে সমাজে বাস করাও দায় হবে। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা। শান্তিগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ীরা জানান এদের অত্যাচারে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা চলাচল করতে পারে না। আমরা এর একটি সুষ্ঠ সমাধান চাই।এদিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হলেও কিশোর অপরাধীদের গ্যাং কালচার বন্ধ করা যাচ্ছে না। প্রতিটি গ্যাংয়ের নেপথ্যেই স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মদদ রয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় এ সকল অপরাধীরা। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত হবে না কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া। তাদের উচিত শিশু-কিশোরদের অপরাধ থেকে মুক্ত রাখার জন্য কর্মসূচি তৈরি করা। পাশাপাশি সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গকেও এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষের অসহায় এ অবস্থা থেকে মুক্তি না মিললে সমাজে বাস করাও দায় হবে। এ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।