বৃহস্পতিবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং || ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ৬ই জিলক্বদ, ১৪৪৭ হিজরী

ত্রিশালে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সীমানা খুঁটি ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে-

হানিফ আকন্দ,ত্রিশাল প্রতিনিধি:: ময়মনসিংহের ত্রিশালে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সীমানা খুঁটি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২নং বইলর ইউনিয়নের সম্মুখ বইলর এলাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্মুখ বইলর গ্রামের আব্দুছ ছামাদ মন্ডল তার ছেলে জামাল উদ্দিনকে বইলর মৌজায় ৩০৩ নং খতিয়ানে ২৫৯২ নং দাগে ৭ শতাংশ জমি (শ্রেণি বাড়ী) দলিল করে দিয়ে যান। পরে জামাল উদ্দিনও একই জমি তার ছেলে ইব্রাহিম খলিলকে লিখে দেয়। উভয়েরই সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে জমির নামজারি জমা খারিজমূলে খতিয়ান খোলা হয়েছে। সেমতে জমির বর্তমান মালিক ইব্রাহিম খলিল দখলে থাকাবস্থায় সীমানা খুঁটি ও জমির উপর থাকার ঘর তৈরি করে। কিছুদিন পূর্বে আকস্মিকভাবে একই এলাকা ও গোষ্ঠীর মৃত আছর আলীর ৪ ছেলে রিপন মিয়া,রফিকুল ইসলাম লিটন,তারা মিয়া (সেলিম), রতন মিয়া জমিতে কোন ধরণের স্থাপনা তৈরিতে বাধা দিয়ে জোরপূর্বক জায়গা বেদখল করার চেষ্টা করে। পরে জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২২/০২/২৪ তারিখে ত্রিশাল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। যার নন এফ আই আর মো নং ৩২/২৪, নন জি আর মো নং ১৫/২৪, ধারা ফৌঃ কাঃ বিঃ ১০৭/১১৭। পরে মামলার আসামীগণ ময়মনসিংহ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে সারেন্ডার করে ভবিষ্যতে আর এধরণের কর্মকাণ্ড করবেনা শর্তে মুচলেকা দিলে বিজ্ঞ আদালত তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও একই ধরনের তারা কর্মকাণ্ড শুরু করে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী জামাল উদ্দিন জানান, আমি ২৫৯২নং দাগে আমার বাবার কাছ থেকে নিষ্কণ্টক ৭শতক সম্পত্তি পেয়েছি। আমার ছেলে আমার কাছ থেকে তা ক্রয় করেছে। আমার ছেলে তার জায়গায় স্থাপনা তুলতে গেলে রিপন গং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং বিভিন্ন রকম হুমকি ও বাধা দেয়। আদালতে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তারা এসব করছে। জমির সকল কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও আমার সন্তানকে সুবিচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধর্না দিতে হচ্ছে। জামাল উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম খলিল জানান, আমার জমির কাগজ সঠিক। তারা কেন বারবার এমন করছে সেটা স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্যদের নিয়ে গত ১৪/১২/২৪ তারিখে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে সালিশ শেষ হতে না হতেই স্থানীয় রশিদ মাস্টার,বশির উদ্দিনের ছেলে সালাম ও আবুল কাশেমের ছেলে শামীমের নির্দেশে আছর আলীর ৪ ছেলে রাকিব গং আমার জমিতে থাকা টিনের ঘরের বেড়াসহ সীমানা খুঁটি ভাঙচুর করে। পরে আমি ত্রিশাল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এএসআই মীর্জা ওয়াসিম জানান, অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং উভয় পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শান্ত থাকার নির্দেশ প্রদান করি। অভিযুক্ত রিপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা আমাদের দাদা ও তার বাবার মধ্যে একটা মৌখিক রদবদল হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই জায়গা না দিয়েই জায়গা নিয়ে নিতে চাচ্ছে।