বৃহস্পতিবার , ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ ইং || ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - গ্রীষ্মকাল || ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪৭ হিজরী

ত্রিশালে আন্দোলনের মুখে মাদ্রাসা সুপারের পদত্যাগ

প্রকাশিত হয়েছে-

হানিফ আকন্দ,ত্রিশাল প্রতিনিধি :: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রায়ের গ্রাম আইয়ূবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মজিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের পদত্যাগ করেছেন। মাদ্রাসার জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করলে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দেয়। গত ২৫ আগস্ট মাদ্রাসার সুপার মজিবুর রহমান পদত্যাগ করেছেন বলে মাদ্রাসার একটি সূত্র জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রিশাল উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের দাখিল মাদ্রাসার সুপার মজিবুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু করেন।তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে মাদ্রাসাটি প্রায় শিক্ষার্থী শূন্য।প্রথম শ্রেণী থেকে দাখিল পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০ জনের মত।অথচ তিনি কাগজে-কলমে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে বই উত্তোলন করেন এবং উপবৃত্তির টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।অনেক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি চাইলে তিনি তাদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করে উপবৃত্তি দেন।শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে বিল উত্তোলনের জন্য প্রতি মাসে তিনি ৪০০/৫০০ করে টাকা নেন।তাছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিগত দিনে নিয়োগ বাণিজ্য ও উপবৃত্তির বিপরীতে ভর্তুকির টাকা উত্তোলন করে তিনি প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।ত্রিশাল পৌর শহরে আলিশান বাড়ি করে বিলাসী জীবন যাপন করছেন। মাদ্রাসার দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা এয়াকুব আলি মিয়ার অভিযোগ এবং মাদ্রাসার ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারী তার পদত্যাগের জন্য জেলা প্রশাসক,ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।পরে সুপার মজিবুর রহমান লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল আহমেদ বলেন, ছাত্রদের তোপের মুখে সে পদত্যাগ করেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপার একটি জিডিও করেছে।আমরা অফিসিয়ালি মিটিং ডেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। অভিযোগ ও পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়ের গ্রাম আইয়ূবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মজিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তিনি এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর ও থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।