মঙ্গলবার , ১০ই মার্চ, ২০২৬ ইং || ২৫শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ২১শে রমযান, ১৪৪৭ হিজরী

শুকতারা সংঘের উদ্দ্যোগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত হয়েছে-

হানিফ আকন্দ,ত্রিশাল প্রতিনিধি:: জাতীয় কবি,বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেক কাটার মধ্য দিয়ে পালন করেছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের শুকতারা সংঘ।শনিবার (২৫ মে) ত্রিশালের দরিরামপুরে অবস্থিত সংগঠনের কার্যালয়ে সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন শুকতারা সংঘের সভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মাসুদ শিহাব,সহ-সভাপতি মোঃ গোলাম কিবরিয়া,সহ-সভাপতি মোঃ খাইরুল বারী সজিব,সাধারণ সম্পাদক মোঃ রমজান আলী রবিন,সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজীব পারভেজ,কোষাধ্যক্ষ মোঃ আহসানুল কবীর সোহেল,ক্রীড়া সম্পাদক আলহাজ্ব নেজামুল হক,আভ্য ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ আবুল হাসিম,সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাজাহান মুরাদ,নাট্য সম্পাদক মোঃ আছাদুজ্জামান সরকার,সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ তাইজুল ইসলাম,পাঠাগার সম্পাদক মোঃ মাহাবুবুল আলম মাস্টার,সাহিত্য সম্পাদক মোঃ নাজমুল হাসান জীবন,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ নজরুল কবীর দীপক,দপ্তর সম্পাদক মোঃ মাহফুজুর রহমান,সম্মানীত সদস্য শ্রী সুশীল চন্দ্র দাস, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও সদস্য মোঃ হুমায়ন কবির আকন্দ,মোঃ বেলাল উদ্দিন সরকার,মোঃ আব্দুলাহ আল মামুন,ইমতিয়াজ আহম্মেদ পিনাকী, মোঃ ফরিদুল আলম মৃধা,মোঃ আনিছ আকন্দ,গোলাম মুর্তুজা সুমন প্রমূখ।
বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মের উপর আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম খুব কাছ থেকে জীবনকে উপভোগ করেছেন। জীবনে অর্জিত তিক্ত অভিজ্ঞতাই তাকে বিংশ শতাব্দীর সেরা লেখক হিসেবে গড়ে তুলেছিল। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত পদ চারণা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বমঞ্চে গৌরবান্বিত করেছে। তাঁর সৃজনশীল সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সাম্যের কথা বলে গেছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর কবিতা ও গান অত্যাচারী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাবন্দি থাকাকালীন কবি নজরুলের কবিতা ‘বিদ্রোহী’, ও গান ‘কারার ঐ লোহ কপাট’সহ নানা সৃষ্টিকর্ম তাঁকে জন মহলে নন্দিত কবি হিসেবে অন্যরকম পরিচয় দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম অবিভক্ত বাংলার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে ১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলা কবিতার একমাত্র বিদ্রোহী ও গানের বুলবুল। তাঁকে সাম্যের, প্রেমের, যৌবনের, মানবতা ও দ্রোহের কবিও বলা হয়। তাঁর বাবা কাজী ফকির আহমেদ ও মায়ের নাম জাহেদা খাতুন। স্বাধীনতার পরে ১৯৭২ সালের ২৪ মে তাঁকে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে এনে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। তিনি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট দুরারোগ্যে রোগে মারা যান। কবির শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। আলোচনা সভা শেষে কবির জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়।